October 25, 2020, 7:43 pm

ব্রেকিং নিউজ :
দক্ষিণ বঙ্গের গণমানুষের মুখপত্র, চিত্রা পাড়ের তথ্যচিত্র দৈনিক আলোকিত নড়াইল’র পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম... -সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি সৈয়দ এস এম জিন্নাহ্ (সাংবাদিক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক)। ** প্রতিনিধি ও আলোকিত নড়াইল পরিবারের সদস্য সংগ্রহ চলছে.. বিস্তারিত ০১৭২৫-৫০০০০১ // ‍ send CV to.... alokitonarail@gmail.com

শ্যামল বাংলার কবি : অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের কবিতার ঝুড়ি

শ্যামল বাংলার কবি : অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের কবিতার ঝুড়ি

<img class=”alignnone size-full wp-image-1827″ src=”http://alokitonarail.com/wp-content/uploads/2019/10/12938939997561528706.gif” alt=”” width=”100%” height=”auto” />

মৃত্যু ও বাঁচা

– মতি গাজ্জালী

আজ এই বাড়িতে যখন নোনাজলের সমুদ্র হানা দিলো;
চোখে আটকে গেলো সম্মাননা ক্রেস্ট।
ধূলোধূসরিত ঝুলধরা কেমন অগোছালো ডাস্টবিন।
এখানে কখনো কিংবদন্তির কেউ ছিল,
কোনো জীবন্ত কাহিনী ছিল,
কারো প্রতিপত্তি, বৈভব আর দাপুটে সময় ছিল,
ঘরের ভেতরকার বিবর্ণতা ওসব প্রমাণ করে না।
যে গড়ে যায় ইতিহাস, রচনা করে ঐতিহ্য, তা যারা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে; তারা যদি খোজা বা ক্লীব হয়,
তখন মনে হয়, উপহার, পুরস্কার একটা ঐতিহাসিক উপহাস।
একটা তিরস্কার বা কোনো শাসকের গালে থাপ্পর।
বলতে পারো;কোনো মহামতি আলেকজান্ডারের নিঃসঙ্গ এক সিপাহশালা।
হতে পারে নবাব সিরাজের পলায়নপরতা, বা লক্ষণ সেনের পিছু হটা।
আমরা তবুও সম্মান কেড়ে নিই, বা নিতে চাই,
কিন্তু সম্মান দিতে জানি না, বিজয়ী হতে জানি না।
সারাজীবন যাকে কেউ চেনে নি, মরণ তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছে,
মৃত্যু তাই কিছু মানুষকে বাঁচতেও শিখিয়েছে।#

 

পরিযায়ী পাখি ফিরে যায় নীড়ে
– মতি গাজ্জালী

সকালের মতোই কিছু মুখ ফুল হয়ে ফোটে, কিছু ঝরে;
কিছু ফেরি করে, কিছু ঢুকে ঘরে,
কিছু বন্দী করে, কিছু যায় ফিরে,
যেমন করে পরিযায়ী পাখি ফিরে যায় আপন নীড়ে,
এমনি করে আসা যাওয়া, ভালবাসার ভাঙাগড়া জীবন ঘিরে।

কাঁদবে তুমি, পারবে না। হাসবে; তুমি পারবে না,
ভেবেও পাবে না, এসব কি এক যাতনা,
বুঝবে, বলা যাবে না। এমন কিছু সকালের ভাবনা।
সূর্য ওঠবে, পাখি গাইবে, নদী ছুটবে, তবুও যন্ত্রণা,
কোথায় ভুল, কার হাতে ডোর, কার নিয়ন্ত্রণ; কিছুই বুঝবে না,
কে ভাঙে, কে ছড়ায় বিষ, কার সব মন্ত্রণা, জানবে না।

রহস্য রহস্য, রক্তাক্ত আজ কিংবদন্তির পারস্য,
চারদিকে আহাজারি, চারদিকে রহস্য,
কথায় জাদুমন্ত্র, কথায় ফুল ফোটানো, পাবে না খুঁজে আদর্শ,
যার কাছে যাবে, খুঁড়ে খুঁড়ে খাবে, পাবে মন্দ পরামর্শ,
ঘটবে বা ঘটাবে যা, বাড়াবে যেখানে পা, দৃশ্যসব লোমহর্ষ,
একদিন বিকেল আর সন্ধ্যায় বুঝবে, শেষ; জীবনের সববর্ষ,
করার কিছু নেই, চারদিকে স্বজনের ক্রন্দন, কারো হর্ষ।

 

সবহারা
– মতি গাজ্জালী

সবসময় বলেছি, হাতি না হও, একটা পিঁপড়ে হও।
শুনো নি, বারবার লতার মতো বৃক্ষ খুঁজেছ।
এখন তুমি ডাল পাওনা, বৃক্ষ তো দূরের কথা।

কাঙালের কথা বাসি হলে ফলে,
আর বুক ভাসাও অশ্রুজলে।
তোমাদেরকেই পরনির্ভরশীল বলে,
ল্যাংড়া লুলার মতো অন্যের কাঁধে ওঠে চলে।

এটা জীবন নয়, বারবার যদি হাত পাততে হয়।
এ তো জীবনের মহা বিপর্যয়।

মানুষ হয়েও পিঁপড়ের কাছে হারছো,
যখন সবহারা, তখন হিতোপদেশ মানছো।

এখন জীবন থেকেও মরছো, আর ভাবছো,
মুছে দেবার কেউ নেই, শুধু কাঁদছো।#

 

আহা, সেরা মানুষ
– মতি গাজ্জালী

এসব ব্যস্ততাগুলো সবসময় একই রকম।
যারা উপেক্ষা করতে শিখে যায়, তাদের হাতে আর সময় থাকে না।
পৃথিবী তাদের কাঁধে সব কাজের দায়িত্ব দিয়ে থাকে।

তারা মানুষকে বোকা ভাবে। মুখ লুকিয়ে খাবে।
কাকও এমন লুকোচুরি করে। উটপাখিও মাথা লুকোয় বালির গভীরে।
তাই বলে ঝড় থামানো যায় না।

চেয়ে ছিলাম, প্রকৃতই তুমি ব্যস্ত হও নিউটনের মতো,
হকিংস বা কোনো বিজ্ঞানী জ্ঞানী ধ্যানির মতো।
জীবনে মরনে, উভয় চত্বরে হও বিখ্যাত।

শুনেছি, শুয়োর নাকি ময়লা আবর্জনা ভালবাসে।
দুষ্ট নাকি কারো বিপদ দেখলে হাসে।
তুলো নাকি সাধারণভাবেই বাতাসে ভাসে।

দুঃখ হয়, তুমি যখন কারো কাছে একমুহূর্তের সময় চাইবে, তখন
সকলে ঘৃণাভরে মুখ ফিরাবে তো বটেই, পদতলে
পিষ্ট করে, নর্দমার বা ভাগাড়ের বস্তু বানিয়ে ফেলবে। আহা, সেরা মানুষ।#

পাল
– মতি গাজ্জালী

এমনই সেদিন ছিল সময়ের ফাঁকে ফাঁকে;
বিষাদ কাকে বলে জানো নি, হর্ষ এসেছিল জীবননদীর বাঁকে।
বসন্ত এনেছিল, পত্রপল্লব আর ফুলদল বৃক্ষশাখে।

দুঃখ আসে নি, চেনো নি অসুখ, বুঝো নি একাকীত্ব কাকে বলে,
চৈত্রের পোড়ামাঠ যেনো ডুবেছিল বর্ষার মধুময় বৃষ্টির ঢলে;
সুখ আর সুখ, আনন্দ আর উল্লাস এসেছিল, সকল দুঃখ পদদলে।

কি করে বুঝবে, কারো অশ্রু, কি কথা বলে আনমনে;
কেমনে কাঁদবে, তা-ও জানো না, জীবনে হয় নি দেখা কষ্টের সনে,
ব্যর্থ আর হতাশ কাকে বলে বুঝো নি, তোমার এই একজীবনে।

যে দুঃখী আর যে সুখী, ফারাক আকাশ পাতাল,
দুঃখীজন সুখ চায়, হয়ে নেশায় মাতাল,
ঘর ছেড়ে রাত যাপন শয্যা হয় চাতাল, হায় রে কপাল,
তখন তুমি হে সুখী, নদীর বুকে; নায়ে টানাও সুখের পাল।

 

চা-কাপের ধোঁয়ার যেন জলপরী

– মতি গাজ্জালী

সকাল বিকাল সন্ধা বলে নয়,
যখনই চা হাতে পাশে বসতে;
চোখে ভেসে ওঠতো জলপরী যেনো সমুদ্র মাঝ থেকে শ্বেতশুভ্র জোছনা রঙা শাড়ি পরে আকাশে পাখা মেলছে।

ভাবতাম, সেই জলপরী বুঝি তুমি এই গরম চা কাপে ধোঁয়ার মাঝে এঁকেবেঁকে লতিয়ে ওঠছো।

নেই সেই বসাবসি, নেই সেই লাস্যময় হাসাহাসি,
নেই সেই ছোটাছুটি আর জোছনা জলে নৌকোয় ভাসার ভাসাভাসি,
তবুও, বারবার ফিরে আসি, স্মৃতি হোক যতোই বাসি।

এখনো তেমনি আছি, স্মৃতি অগণন রাশিরাশি,
যদিও নেই পাশাপাশি, নেই কোনো রেষারেষি,
ক্ষণিকে তুমিও আসো, আমিও আসি, বসি অলক্ষ্যে পাশাপাশি।

স্বপ্ন হলেও, মন কেমনের কষ্ট হলেও, পুরনোতেই ফিরে আসি,
বলো তো, এ কেমন ভালবাসি?

ন্যাকামি শুনে, নিশ্চয় তোমার আসছে হাসি,
মিলনে না হোক, বিচ্ছেদেই বেশী ভালবাসাবাসি,
জানো, ভুলগুলো ভুলে গেছি, সুখগুলো ফিরে আসে হয়ে ছদ্মবেশী।

লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

লেখক : কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

সৌজন্যে : সৈয়দ সে এম জিন্নাহ্ (গণমাধ্যম বিশ্লেষক ও সম্পাদক দৈনিক আমাদের’৭১)

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved (2010-2020)The Daily Alokito Narail

Desing & Developed BY www.dailyamader71.Com