October 25, 2020, 11:54 am

ব্রেকিং নিউজ :
দক্ষিণ বঙ্গের গণমানুষের মুখপত্র, চিত্রা পাড়ের তথ্যচিত্র দৈনিক আলোকিত নড়াইল’র পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম... -সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি সৈয়দ এস এম জিন্নাহ্ (সাংবাদিক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক)। ** প্রতিনিধি ও আলোকিত নড়াইল পরিবারের সদস্য সংগ্রহ চলছে.. বিস্তারিত ০১৭২৫-৫০০০০১ // ‍ send CV to.... alokitonarail@gmail.com

বিপ্লবী কবি আবদুল খালেকের আজ ৭৭তম জন্মবার্ষিকী

বিপ্লবী কবি আবদুল খালেকের আজ ৭৭তম জন্মবার্ষিকী

<img class=”alignnone size-full wp-image-1827″ src=”http://alokitonarail.com/wp-content/uploads/2019/10/12938939997561528706.gif” alt=”” width=”100%” height=”auto” />

আলোকিত ডেস্ক : বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর বিশ্ব বাঙালি সম্মেলনের সভাপতি ও জনপ্রিয় মাসিক সাহিত্যকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ আবদুল খালেকের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী আজ।

বিশ্ব বাঙালির বিপ্লবী কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক ১৯৪৩ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর এবং ১৩৫০ বঙ্গাব্দের ৩রা আশ্বিন শুক্রবার দুপুর একটায় পিত্রালয় জন্মগ্রহণ করেন। পিতামাতার দ্বিতীয় সন্তান আবদুল খালেক নানার বাড়িতে গ্রাম্য মক্তবে প্রাথমিক অক্ষর পরিচিতি লাভ করেন। এরপর আবদুল খালেক মধ্যমিঠাখালিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম থেকে ৫ম শ্রেনীর লেখাপড়া শেষে মঠবাড়িয়া কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশনে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেনীর লেখাপড়া শেষে ১৯৬৩ সালে প্রথম ব্যাচ এস এস সি ঢাকা বোর্ড থেকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৩-৬৫ বরিশাল বি এম কলেজ থেকে এইচ এস সি দ্বিতীয় বিভাগে পাস করেন।

স্কুল ও কলেজ জীবনে মুহম্মদ আবদুল খালেক বেশ কিছু কবিতা লেখেন। স্কুল কলেজ সাময়িকীতে তার কবিতা প্রকাশিত হয়।

১৯৬৫ সালে মুহম্মদ আবদুল খালেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বি এসসি ক্লাসে ভর্তি হন। ভর্তির আগে পদার্থবিজ্ঞানের তৎকালীন বিভাগীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবদুল মতিন চৌধুরীর সাথে আবদুল খালেক দেখা করে তাঁর সুপরামর্শ গ্রহণ করেন।

ভর্তির আগে তৎকালীন ইকবাল হল বর্তমান জহুরুল হক হলের ভিপি সওগাতুল আলম সগিরের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ছিলেন মঠবাড়িয়ার এক কীর্তিমান মুক্তিযোদ্ধা সন্তান। হলে থাকার সিট পাওয়ার জন্যও তাঁর সাথে আলোচনা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পূর্বে তৎকালীন ঢাকা প্রকৌশল কলেজে ভর্তির ইচ্ছা থাকলেও সময় মত ঢাকা না আসায় প্রকৌশল কলেজে ভর্তি সম্ভব হয় নি। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় আবদুল খালেক ” বিপ্লবী কবি” হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা কালে কবিতা চর্চা ও লেখা পুরোদমে চলতে থাকে। এই সময় থেকে মুহম্মদ আবদুল খালেক কবি আবদুল খালেক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে পরিচিত হয়ে হয়ে উঠতে থাকেন। আবদুল খালেকের সংগ্রামী ও বিপ্লবী চেতনার কবিতার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আবদুল খালেককে বিপ্লবী কবি হিসেবে আখ্যায়িত করতে থাকে।

১৯৬৫ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর সাথে আবদুল খালেক এর প্রথম পরিচয়, তারপর ঘনিষ্ঠতা হতে থাকে

১৯৬৫ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির জনসভায় আবদুল খালেক এর উপস্থিতি রাজনৈতিক সচেতনতা তার মধ্যে ভালই লক্ষ্য করা যায়। বঙ্গবন্ধুর সাথে তখন অনেকটা সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধুকে তার কবিতা দেখালে তিনি আবদুল খালেককে খুবই উৎসাহ দেন এবং বেশি বেশি কবিতা লিখতে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, তোমার কবিতা তো কবি নজরুল ও কবি সুকান্তের মত প্রতিবাদী ও বিপ্লবী। তার বহু পূর্ব থেকে আবদুল খালেক বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে প্রায়ই আসা যাওয়া করতো।

জাতীয় অধ্যাপক ও সাহিত্যিক ড. কাজী মোতাহার হোসেন এর ছাত্র এবং আবদুল খালেক সম্পাদিত শেরে বাংলা গ্রন্থের আলোচনা করেন

১৯৬৮ সালে বি এসসি পাসের পর কবি আবদুল খালেক যখন পরিসংখ্যানের ছাত্র তখন প্রথমে তিনি পরিস়ংখ্যানে ডিপ্লমা নেওয়ার পর তিনি পরিস়ংখ্যানে এম সি এর ছাত্র তখন তিনি জাতীয় অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেনের ছাত্র। কাজী মোতাহার হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক, গণিত বিভাগের প্রফেসর এবং তিনি একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক। তিনি আবদুল খালেককে খুবই ভালো বাসতেন। কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক এর প্রকাশিত ও সম্পাদিত ৫১২ পৃষ্ঠার “শেরে বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হক” গ্রন্থের যে সমালোচনা লিখেছিলেন তা বাংলা একাডেমী প্রকাশিত তাঁর জীবনী গ্রন্থের শেষে ঐ আলোচনাটি লিপিবদ্ধ রয়েছে। এই সমালোচনাটি তৎকালীন দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় সাহিত্যের পাতায় প্রকাশিত হয়।

এই গ্রন্থের তৎকালীন Daily Observer এ সমালোচনা করেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সমালোচনা করেন অধ্যাপক মোস্তফা নূরুল ইসলাম। সাপ্তাহিক বিচিত্রায় সমালোচনা করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। আরও কত দৈনিক ও সাময়িকীতে এই গ্রন্থের উপর আলোচনা ও সমালোচনা প্রকাশিত হয়। এরপর পাঁচ শতাধিক পৃষ্ঠায়

“মহাপুরুষ ফজলুল হক “। এই গ্রন্থটিও বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিক সাময়িকীতে আলোচিত হয়।

এই সময়ে পরিসংখ্যান বিভাগের আর একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক শিক্ষক ছিলেন আসকার ইবনে সাঈক। যার শিক্ষক হিসেবে নাম ছিল ওবায়দুল হক।

১৯৬৮ সালে কবি সুফিয়া কামালের ধানমন্ডির বাড়িতে তাঁর সাথে প্রথম পরিচয় হয়। এই সময়ে তাঁকে আমার কবিতা দেখালে খুব সুন্দর প্রতিবাদি কবিতা বলে মন্তব্য করেন। বেশী বেশী কবিতা লিখতে বলেন

১৯৬৯ সালে বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত

১৯৬৯ সালে কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক ” বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ ” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এই স়ংগঠনের সভাপতি ছিলেন কবি আবদুল খালেক। উপদেষ্টা ছিলেন প্রফেসর ড. আহমদ শরীফ, কবি সুফিয়া কামাল, কবি আবদুল কাদির, প্রফেসর ড.মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এব়ং কার্যনির্বাহী পরিষদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কবি সাহিত্যিক ছাত্ররা ছিলেন। বর্তমানে এই সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র ও শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

১৯৬৯ সালে প্রথম কবিতা সংকলন “রক্ত প্লাবন ” প্রকাশিত ও বঙ্গবন্ধুর জনসভায় অসংখ্য সংখ্যা বিক্রয়

রক্তপ্লাবন নামে কবি আবদুল খালেক এর কবিতা সংকলন প্রথম প্রকাশিত হয়। এই সংকলনটির শুভেচ্ছা মূল্য ছিল আট আনা। শহীদ মনু মিয়া স্মরণে আওয়ামী লীগের রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় টিএসসি বরাবর পূর্ব দিকে রেসকোর্সে একটা বড় চাদর বিছিয়ে সংকলনটি বিক্রয়ের জন্য রাখা হয়। জনসভা চলাকালীন সময়ে আট হাজার সংকলন জনসভায় আসা লোকজন চাদরে আট আনা করে ফেলে রক্তপ্লাবন নিয়ে যায়। এই চাদরের চার পাশে চার জন ছাত্র দাঁড়িয়ে ছিল। এই ভাবে প্রথম সংকলন বিক্রয় করে অনেক টাকা উপার্জন হয়।

১৯৬৮ থেকে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে রক্তপ্লাবন, বিদ্রোহী বা়ংলা, মায়ের কন্ঠস্বর, বিক্ষুব্ধ বাংলা, শেখ মুজিব ও বাংলা এই কয়টি স়ংকলন কবি আবদুল খালেক এর কবিতা সংকলন বা কাব্য প্রকাশিত হয়।

স্বাধীনতা উত্তরকালে ১৯৭২-৭৩-৭৪ সালে কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। এই সময়ে তিনি এম এসসি পাস করেন। এই সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এল এল বি ও সাংবাদিকতায় লেখাপড়া করেন। সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা পাসের পর এম এ শেষ পর্বে লেখাপড়া করলেও অসুস্থতার জন্য পরীক্ষা দেন নি।

বঙ্গবন্ধুর উপর প্রথম স়ংকলন ” শেখ মুজিব ও বাংলা ”

কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন

১৯৭০সালে তৎকালীন পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও রাজনৈতিক কয়েকটি ভাষণ , জাতীয় নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম কে নিয়ে ” শেখ মুজিব ও বাংলা ” শীর্ষক স়ংকলনটি প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন কবি আবদুল খালেক। এই স়ংকলনটি তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি বাণী দিয়ে ছিলেন। এই স়ংকলনটি দশ হাজার কপি প্রকাশ করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জনসভায় দুই টাকা মূল্যে বিক্রয় করা হয়েছিলো।

উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর সাথে প্রথম দেখা ও কবিতা নিয়ে আলোচনা

মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তখন তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে একদিন আকস্মিক হল পরিদর্শনে আসেন তখন কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক ওই হলের গেটে ছিলেন। হাতে কিছু ছাপা কবিতার কপি ছিল যা উপাচার্য মহোদয় হাতে নিয়ে দেখেন। কবিতার কয়েকটি দেখে মন্তব্য করেন, ” তুমি তো ভাল কবিতা লিখছো। তোমার কবিতা তো খুবই প্রতিবাদী। তুমি কয় বছর ধরে কবিতা লিখছো? তোমার কবিতা তো কবি নজরুল ও কবি সুকান্তের মত বিপ্লবী ও বিদ্রোহী। ভাল ভাল লিখতে থাকো। সাথে সাথে লেখাপড়া ভালভাবে করো। লেখাপড়ায় ভাল করলে, কবিতা লেখা সার্থক হবে। পিতামাতার কষ্টকে সার্থক করে তোল। ”

এরপর তিনি আবদুল খালেককে নিয়ে হলের মধ্যে গেলেন। হলের কয়েকজন ছাত্রকে বললেন, হলের প্রভোষ্ট ও হাউস টিউটরদের ডাকো এবং আমার কথা বলো। তিনি ঘুরে ঘুরে কয়েকটা কক্ষে ডুকে দেখলেন, ডাইনিং হল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কিনা দেখলেন। প্রভোষ্ট ও হাউস টিউটরদের সাথে কথাবার্তা বললেন। হলের উন্নয়ন চাই। ছাত্র দের লেখাপড়ার পরিবেশ ভাল করতে হবে।

উপাচার্য মহোদয় চলে যাওয়ার সময়ে কবি আবদুল খালেককে বললেন, কবি আবদুল খালেক যে কোন দিন বিকেল পাঁচটায় আমার অফিসে আমার সাথে দেখা করতে এসো, তোমার সাথে কথা বলবো।

মুক্তিযুদ্ধে কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের পর প্রকৃত পক্ষে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি স্বাধীনতামুখী হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের সামরিক শাসক প্রধান ইয়াহিয়া নির্বাচনের রায় না মানার জন্য বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের পায়তারা করতে শুরু করে। নির্বাচনে বিপুল রায়ে এগিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর সাথে জাতীয় সংসদে না বসার জন্য জুলফিকার আলী ভূট্টোকে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ষড়যন্ত্র করতে থাকে।

অবশেষে ইয়াহিয়া তার সামরিক বাহিনী দিয়ে রাজধানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হলে থাকা আবাসিক ছাত্রদের তাকে যেখানে পেয়েছে তাদেরকে হত্যা করেছে।

১৯৭৩ সালে কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক “বাংলাদেশ সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ “প্রতিষ্ঠা করেন

বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রথম সভাপতি করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয় কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক কে। এই সংগঠনের উদ্যোগে কষ্টিপাথর, জন্মতিথি, রত্নদীপ, একুশের বিদ্রোহ ও রক্ত হলো সূর্য ইত্যাদি সংকলন প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক। এর মধ্যে রক্ত হলো সূর্য সংকলনটিতে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ কালে যে সকল শিক্ষাবিদ, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, গবেষক ও শিল্পীদের হত্যা করা হয়েছিল তাঁদের বিস্তারিত জীবন আলেক্ষসহ ছবি প্রকাশ করা হয়েছিল। এই সংকলন থেকে বাংলা একাডেমী শহীদ স্মরণে গ্রন্থে দশটি লেখা সংকলিত করে যেখানে রক্ত হলো সূর্য সংকলন থেকে সংকলিত উল্লেখ ছিল। এই সংকলনটি ইতিহাসভিত্তিক শহীদ স্মরণিকা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ভাল হয়েছিল।

১৯৭৩ সালে কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক উদ্যোগে শেরে বাংলার জন্মশতবার্ষিকীতে “শেরে বাংলা জাতীয় স্মৃতি সংসদ” প্রতিষ্ঠিত

কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক এর ছাত্র জীবনের শেষ দিকে কত জনপ্রিয়তা ছিল যে দেশের শ্রেষ্ঠতম কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ বিশেষজ্ঞ, গবেষক সকলে তার আহ্বানে সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক দু’টি সাহিত্য সাময়িকী মাসিক সাহিত্যকন্ঠ ও কষ্টিপাথর প্রকাশের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এই সাহিত্যকন্ঠ ও কষ্টিপাথর এই দু’টি সাময়িকী বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম সাময়িকী। এটা শুধু বাংলাদেশ এর নয়, ভারতের বাংলা সাহিত্যের এ রকম কোন সাময়িকী আর নেই।

১৯৭৩ সালে জাতীয় নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মশত বার্ষিকী ছিল। এই বছর শেরে বাংলার জন্মদিন ২৬ অক্টোবর যথা মর্যাদায় উদযাপনের জন্য কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক এর উদ্যোগে এক সভা আহ্বান করা হয়। এই সভায় প্রবীন রাজনীতিক আতাউর রহমান খান, সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, কবি সুফিয়া কামাল, কবি আবদুল কাদির, অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খা, সৈয়দ আজিজুল হক নান্না মিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের প্রফেসর নাজমুল করিম , প্রফেসর মুহাম্মদ আফসার উদ্দীন ও প্রফেসর রঙ্গলাল সেন, ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর মফিজুল্লাস কবির, প্রফেসর আবদুর রহিম, ব্যরিষ্টার মইনুল হোসেন সহ ৩৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

সৈয়দ আজিজুল হক নান্না মিয়ার সাথে কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক এর গভীর সম্পর্ক ছিল। এই নান্না মিয়া শেরে বাংলার সময়ে মন্ত্রী ছিলেন। এক সময়ে এই নান্না মিয়া কবি আবদুল খালেককে না দেখে থাকতে পারতেন না। প্রায় দিনই সকালে বিকালে কবি আবদুল খালেক নান্না মিয়ার তেসতুরী বাজারের বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন।

প্রথমে ‌শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক জন্মবার্ষিকী উদযাপন পরিষদ গঠন করা হয়। আহ্বায়ক করা হয় ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনকে ও যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় কবি মুহম্মদ আবদুল খালেককে। পনেরদিন পর ঐ উদযাপন পরিষদের আর এক সভা আহ্বান করা হয়। এই সভায় শেরে বাংলার জন্মবার্ষিকী উদযাপনের কর্মসূচী প্রনয়ন করা হয় এবং ব্যারিষ্টার হোসেনকে সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কবি মুহম্মদ আবদুল খালেককে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সভায় দেশের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে প্রধান অতিথি করে আনার সিদ্ধান্ত হয়। ২৬ অক্টোবর শেরে বাংলার মাজারে কর্মসূচীর মধ্যে সকালে মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মাজার জেয়ারত, মাজার প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা।

দেশের শ্রেষ্ঠতম ভাষাবিদ ও শিক্ষাবিদ চট্টগ্রামের ড. মুহম্মদ এনামুল হক শেরে বাংলা জাতীয় স্মৃতি সংসদ এর সভাপতি নির্বাচিত

ভাষাবিদ সাবেক উপাচার্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মুহম্মদ এনামুল হককে শেরে বাংলা জাতীয় স্মৃতি সংসদের দ্বিতীয় সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। চট্টগ্রামের এই শিক্ষাবিদ জাহাংগীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর উপাচার্য ছিলেন। এই সময়ও সাধারন সম্পাদক ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক।

এই সময় শেরে বাংলা জাতীয় স্মৃতি সংসদ দেশবাসির কাছে গ্রহণযোগ্যতা বিপুলভাবে বেড়ে যায়। ড. এনামুল হক দেশের একজন শ্রেষ্ঠতম ভাষাবিজ্ঞানী শিক্ষাবিদ ছিলেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও ড. মুহম্মদ এনামুল হক এই দুই জন দেশের শ্রেষ্ঠতম মহান ভাষাবিদ ছিলেন। কেউ কারও থেকে কম ছিলেন না।

তিনি কবি মুহম্মদ আবদুল খালেককে খুবই ভাল বাসতেন। তিনি প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কবি আবদুল খালেক এর কবিতা ও তার সাংগঠনিক তৎপরতার প্রশংসা করতেন।

এরপর শেরে বাংলা জাতীয় স্মৃতি সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন সিলেটের শিক্ষাবিদ সাহিত্যিক সৈয়দ মুরতাজা আলী। তিনি এক বছর সভাপতি ছিলেন।

এরপর শেরে বাংলা জাতীয় স্মৃতি সংসদের সভাপতি

নির্বাচিত হন সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন

এদের সকলের সময়ে শেরে বাংলা জাতীয় স্মৃতি সংসদ উপযুক্ত মর্যাদার গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।

সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনকে শেরে বাংলা জাতীয় স্মৃতি সংসদের সভাপতি করা হয়। মুহম্মদ নাসিরউদ্দীন শেরে বাংলার অত্যন্ত কাছের মানুষ ছিলেন। কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক নাসিরউদ্দীন এর পরম প্রিয়পাত্র ছিলেন। নাসিরউদ্দীন এর সাথে কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক এর পরিচয় থেকে তার কবিতার জন্য কবিকে অত্যন্ত ভাল বাসতেন।

মুহম্মদ নাসিরউদ্দীনকে নাগরিক সংবর্ধনা পরিষদ গঠনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন কবি আবদুল খালেক। এই নাসিরউদ্দীনই শেরে বাংলা জাতীয় পুরস্কার প্রবর্তনের উদ্যোক্তা ছিলেন এবং প্রথম বারের পুরস্কার এর টাকা তিনি দিয়েছিলেন।

নাসিরউদ্দীন শেরে বাংলার সমগ্র ইতিহাস জানতেন। তাঁর মাধ্যমে শেরে বাংলার পারিবারিক জীবনের সকল জীবনবৃত্তান্ত কবি আবদুল খালেক জানতে পারে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খান শেরে বাংলা জাতীয় স্মৃতি সংসদ এর সভাপতি হন। তাঁর মৃত্যুর পর কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক সভাপতি নির্বাচিত হন

এই প্রবীন রাজনীতিবিদ আতাউর রহমান খান এর সাথে কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক এর গভীর সম্পর্ক ছিল। তাঁর শেষ জীবনের অত্যান্ত কাছের মানুষ ছিলেন কবি আবদুল খালেক। কবি আবদুল খালেক প্রতিদিন আতাউর রহমান খান এর ধানমন্ডির সাত নং রোডের বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন। এই সময়ে এই প্রবীন রাজনীতিক এর মাধ্যমে গত শত বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক জানতে পারেন।

বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামকে ঢাকায় প্রথম এনে স়ংবর্ধনা দেওয়ার প্রধানতম ব্যক্তিত্ব ছিলেন আতাউর রহমান খান

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম সর্বপ্রথম যখন বাংলাদেশে আসেন তার সমগ্র তথ্যাদি আতাউর রহমান খান জানতেন কেন না তিনি নজরুলকে ঢাকায় আনার ব্যাপারে প্রধানতম ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কবি নজরুল ইসলামের সাথে সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন এর যেমন সম্পর্ক ছিল, আতাউর রহমান খান এর সাথেও তেমন সম্পর্ক ছিল। এই দুই প্রধানতম ব্যাক্তিত্বের কাছ থেকে কবি নজরুলের জীবনের অনেক ঘটনাই কবি আবদুল খালেক জানতে পারেন।

কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক এর কবিতা, প্রবন্ধ ও অন্যান্য গ্রন্থ প্রকাশিত

কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক এর ১৮ টি কাব্য সহ মোট ৩২ টি গ্রন্থ প্রকাশিত। ৫ টি কাব্য অপ্রকাশিত। শেরে বাংলার জীবনী গ্রন্থ সহ জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি নজরুল ইসলাম, কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কবি জীবনানন্দ দাশ, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য, কবি সুফিয়া কামাল, কবি মোজাম্মেল হক, বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আতাউর রহমান খান সহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপর প্রবন্ধ ও গবেষণা প্রবন্ধ বিভিন্ন জাতীয় পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক এর সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো তাঁর কবিতা। তাঁর ১৮ টি কাব্য প্রকাশিত, আরও ৫ টি কাব্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক এর প্রকাশিত মোট গ্রন্থ ৩২টি। তাঁর ১৮টি কাব্যের নাম উল্লেখ করা হলো। কাব্য গুলো হলো: রক্ত প্লাবন, বিদ্রোহী বাংলা, মায়ের কন্ঠস্বর, বিক্ষুব্ধ বাংলা, স্বাধীনতা তোমাদের জীবনের দাম, এসো এবার কুশাসনের কুশপুত্তলিকা দাহ করি, বিপ্লবের আগনে স্তরের আলো জ্বলুক, Let Us Be Mobilized In The Rally, যে জন্মের মৃত্যু নেই, গড়ে তুলি মহাবিশ্ব সুযোগ্য আবাসভূমি, যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, বিপ্লবের চেতনায় অগ্নি জ্বলে, বঙ্গনেতা শেখ মুজিব : তুমিই তো বাংলাদেশ, রক্ত বিপ্লবে গড়েছি দেশ বাংলাদেশ, মানুষের বিবেকই তো মহান আদালত, বাঙালি ও বাংলাভাষাই মানবতার ফুল ফোটায় মহাবিশ্বে এবং জাতিসংঘে, বাংলাদেশ : বাঙালিত্বের পবিত্র তীর্থভূমি, জাতির জনকের সোনার বাংলা বাঙালির বাংলাদেশ।

কবি আবদুল খালেক অর্জিত বিভিন্ন পুরস্কার

কবিতা ও সাহিত্যকর্মের জন্য কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক বাংলাদেশ, ভারত, আমেরিকা, গ্রেটবৃটেন ও অষ্ট্রেলিয়া থেকে তিন শতাধিক পুরস্কার, স্বর্ণপদক, পদক ও সম্মাননায় ভূষিত। ভারত থেকে আটটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কারসহ পঞ্চাশের অধিক পুরস্কারে ভূষিত এবং

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে ” বাঙালির বিপ্লবী কবিরত্ন ” উপাধিতে ভূষিত হন।

ভারত থেকে যে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন তা হলো

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু পুরস্কার তা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল (গভর্ণর) শ্রী বিতরন জে শাহ আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রদান করেন।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য পুরস্কার সুকান্তের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রদান করেন তৎকালীন রাজ্যপাল (গভর্ণর) বিচারপতি শ্যামল কুমার সেন।

কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ভারতের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক ও সৈয়দ আবুল হোসেন সহভারতের আরও দুই জন স্বাধীনতা সংগ্রামী কে ভারতের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করেন

জ্যোতি বসু তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তখন কলকাতায় অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনে নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করেন।

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পুরস্কার নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বার সহস্রাধিক লোকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে প্রদান করেন তৎকালীন মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী।

শতাব্দী পুরস্কার প্রদান করেন শতাব্দী বরণ অনুষ্ঠানে সল্টলেক ষ্টেডিয়ামে প্রায় লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে।

এখানে অন্ন দা শংকর রায়, কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক ও রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সুবিনয় রায়কে ভারতের স্পীকার উক্ত পুরস্কার প্রদান করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী।

ভাষা শহীদ বরকত পুরস্কার প্রদান করেন তৎকালীন মন্ত্রী মোহাম্মদ সেলিম। এই অনুষ্ঠানটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে শহীদ বরকত এর গ্রাম মুর্শিদাবাদের বাবলা গ্রামে প্রায় দশ হাজার লোকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়।

নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করেন ভারতের তৎকালীন মন্ত্রী ও নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের তৎকালীন সভাপতি তপন শিকদার।

সর্বভারতীয় লেখক সম্মেলনে ভারতের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ড. প্রতাপ চন্দ্র চন্দ কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক কে বাঙালির বিপ্লবী কবিরত্ন উপাধি দিয়ে সনদ প্রদান ও পুরস্কার স্বর্ণপদক প্রদান করেন।

এ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে কবি আবদুল খালেক আরো যে সব পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তা হলো — দ্রৌপদী সাহিত্য পুরস্কার, আমাদের ভাষা আন্দোলনের উপর একুশে পুরস্কার স্বর্ণপদক, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পুরস্কার, কবি নজরুল ইসলাম পুরস্কার, কবি জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার, কবি অন্নদা শংকর রায় পুরস্কার, কবি ফকির লালন শাহ পুরস্কার, কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় পুরস্কার, গুলবাগিচা পুরস্কার, বেসরকারী সুকান্ত পুরস্কার, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতের প্রতিরক্ষা দিবস পুরস্কারসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে নানা পুরস্কার।

বাংলাদেশ থেকে বেসরকারী ভাবে যে সকল পুরস্কার স্বর্ণপদক সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে মওলানা ভাসানী পুরস্কার স্বর্ণপদক ও স্মারক, এই পুরস্কারটি মওলানা জাতীয় স্মৃতি পরিষদের সভাপতি এডভোকেট মুজিবুর রহমান ও অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ কাজী প্রদানের ব্যবস্থা করেন। যে অনুষ্ঠানে এই পুরস্কারটি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ কে এম নূরুল ইসলাম। শহীদ সোহরাওয়ার্দী পুরস্কার স্বর্ণপদক ও স্মারক প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জাতীয় স্মৃতি পরিষদের সভাপতি, তৎকালীন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান ও বৃহত্তর ঢাকা জেলার প্রথম ডক্টরেট ড. এ কিউ এম বি করিম। শেরে বাংলা পুরস্কার স্বর্ণপদক ও স্মারক প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন সওগাত সম্মাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান ও কবি সুফিয়া কামাল। এরপর জাতীয় সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করেন জাতীয় সাহিত্য সংসদ। এই পুরস্কার পেয়েছিলেন সওগাত সম্মাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন, ড. আশরাফ সিদ্দিকী, জাতীয় অধ্যাপক ডা. নূরুল ইসলাম ও কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved (2010-2020)The Daily Alokito Narail

Desing & Developed BY www.dailyamader71.Com